28.1 C
Bangladesh
Thursday, May 13, 2021
Home প্রচ্ছদ রোহিঙ্গা গণহত্যা: এবার জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা

রোহিঙ্গা গণহত্যা: এবার জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এ মামলায় মিয়ানমারের গণহত্যার আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার ব্যবস্থা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জরুরিভাবে আদেশ দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার হেগে এক সংবাদ সম্মেলনে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর তামবাদো বলেন, “জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় আমরা মাত্রই আইসিজে-তে আমাদের আবেদন জমা দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের চালানো গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহি চাইতে এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আচরণ যা সব রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক তাকে সমর্থন ও জোরদার করতে গাম্বিয়া এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমাদের চোখের সামনে গণহত্যা ঘটবে আর আমরা তা দেখেও কিছু না করলে আমাদের প্রজন্মের জন্য তা খুবই লজ্জার ব্যাপার হবে।”ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়ে, গাম্বিয়া তাদের ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বসতবাড়ি ধ্বংসের কথা বলেছে। যদি আইসিজে মামলাটি বিচারের জন্য গ্রহণ করে, তবে এটাই হবে গণহত্যার নিজস্ব তদন্তে আইসিজের প্রথম উদ্যোগ। এর আগে তদন্তের ক্ষেত্রে তারা অন্য সংস্থার উপর নির্ভর করত।

আইসিজে হল জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ; ১৯৪৫ সালে গঠনের পরের বছর থেকে এই আদালত কার্যকর। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে এ আদালত। আইসিজে’র বিধি অনুসারে, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারে। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে যে ১০টি সংগঠন গাম্বিয়াকে সহায়তা করছে, তাদের একটি হল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এ সংস্থার পরিচালক পরম-প্রিত সিং এক বিবৃতিতে বলেন, “গাম্বিয়ার এই আইনি পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হল। এখন আদালত রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে।” আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভিযানের মধ্যে ছিল হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন, ভৌত বিনাশ বয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি, জন্মরোধের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ও জোরপূর্বক স্থানান্তর। এগুলো গণহত্যার বৈশিষ্ট্য। কারণ এসবের উদ্দেশ্য ছিলো রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া।

এর আগে গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি গাম্বিয়ার নাগরিক ফেতুউ বেনসোদা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরুর জন্য বিচারকদের অনুমতি চান। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সেসময় গণধর্ষণ, হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান গত মাসে সতর্ক করে দিয়েছে যে সেখানে গণহত্যার পুনরাবৃত্তির গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে মিশন গত সেপ্টেম্বরে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গনে মিয়ানমারের জবাবদিহি আদায় করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

রাজনৈতিক ব্লেম গেম থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদ সামনে রেখে করোনাকালীন এই সংকটে রাজনৈতিক ব্লেম গেম থেকে...

১৬ মে ‘র পর বাড়তে পারে লক-ডাউনের মেয়াদ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, লকডাউন কোনো...

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর

৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় কাল ঈদ উদযাপন করবেন। বুধবার দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার...

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে পদদলিত হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মানুষের পদদলিত হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে শিমুলিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় তিন হাজার যাত্রী নিয়ে শাহ...

Recent Comments