18 C
Bangladesh
Saturday, December 10, 2022
Home জাতীয় চার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ১০০ বেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

চার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ১০০ বেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

Narth South Universityঢাকার বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতি মুহূর্তে শংকায় কাটছে, অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে এই শংকা। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, যারা আমাদের শিখাচ্ছেন, যারা ক্যাম্পাসে বিচরণ করছেন এদের মধ্যে জঙ্গি আছে বা থাকতে পারে। এ কারণে আমরা শংকায় আছি।

রফিকুল আলম নামে এক অভিভাবক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ক্যাম্পাসে এখনও জঙ্গি আছে। তারা নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাচ্ছে, সহপাঠীদের সাথে গল্প করছে। ভয়ের কারণ, এরাতো ক্যাম্পাসেও আক্রমণ চালাতে পারে। হিযবুত তাহরীর বা কোনো জঙ্গির সাথে আমাদের সন্তানদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা নিয়ে আমরা চিন্তিত’।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। এছাড়া কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর হামলা করে। সেখানে নিহত হামলাকারী আবির রহমানও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কে বোমা হামলা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। তিনিও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। বনানীর এক অভিভাবক বলেন, প্রতি মুহূর্তেই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। কার পাশে বসছে, কার সাথে মিশছে এটা নিয়েই যত ভয়। শুনেছি  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মকর্তা হিযবুত তাহরীর সংশ্লিষ্ট।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা জঙ্গি থেকে দূরে থাকতে চাই। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় যদি জঙ্গি লালন করে বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো।

সালমান পরিচয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একসময় ক্যাম্পাসকে মনে হতো স্বপ্নপুরী। এখন মনে হচ্ছে মৃত্যুকূপ। ক্যাম্পাসে পৌঁছলেই ভয় যেন পিছু ছাড়ে না। ক্যাম্পাস ছাড়লেই ভয়মুক্ত। নিজের ক্যাম্পাসেই হিযবুত তাহরীর এবং জঙ্গি, ভয় হয়, লজ্জাও লাগে’।

হিযবুত তাহরীর সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও দীর্ঘ দিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনায় অনিয়ম, ভর্তি বাণিজ্য, সাধারণ তহবিল থেকে ট্রাস্টিদের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও বিদেশ ভ্রমণ, ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েক সদস্যের স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি। ইউজিসির অনুমোদনের বাইরে একাধিক সেকশন চালু করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে এমন প্রমাণ মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে।

ইউজিসি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।

ট্রাস্টি সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানি বাবদ লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করেন। তারা বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সফর করেন; যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি। এ ছাড়াও অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং সংখ্যাতিরিক্ত ছাত্র ভর্তির প্রমাণ মিলেছে।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে

সজাগ সচেতন: শিক্ষামন্ত্রী

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নাম আসায় নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকার সচেতন আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বৈঠকের আগে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আগেও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। তখন কি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি— এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। তাদের সঙ্গে আগেও বৈঠক করেছি, বহু আলোচনা করেছি’।

তিনি বলেন, আজকে এ ঘটনাটা সকলকে যেভাবে নাড়া দিয়েছে আগের ঘটনটি এভাবে সকলকে নাড়া দেয়নি। এটা আমাদের নজরে নেই, তা কিন্তু নয়। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষককে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা ওখানে যে নজর রাখি না তা নয়। নর্থ-সাউথে অনেক ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। অনেক দিন ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটিকে স্থগিত রেখেছি। প্রসেস কমপ্লিট না করা পর্যন্ত আমরা তাদের কনভোকেশন করতে দেইনি। সেখানে রাষ্ট্রপতি যাবেন সেটা আমরা অনুমোদন করিনি। এতে তাদের অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে।’

শিক্ষা কার্যক্রমে এক সেমিস্টার অনুপস্থিত থাকলে ছাত্রত্ব বাতিল হবে এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট শিক্ষামন্ত্রী। তাদের এ সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়নি বলেও জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এ সিদ্ধান্ত লোক দেখানো। একটি সেমিস্টার হতে চার মাস লাগে, আসলে ৬ মাসের কমে কোনো সেমিস্টার হয় না। ভর্তি হওয়ার পর একজন ছাত্রকে যদি কেউ বিপথে নিয়ে যায়, ট্রেনিংয়ের জন্য বিদেশে পাঠায়, তারপর ফিরে এসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে পারবে’। ইত্তেফাক

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চায় ব্রাজিল

কাতার বিশ্বকাপে আগামীকাল শুক্রবার দিনের ও টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মোকাবেলা করবে নেইমারের প্রত্যাবর্তনে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল। শেষ ষোলর ম্যাড়মেড়ে পারফর্মেন্স করা ক্রোয়েশিয়াকে...

সরকার তৃণমূলে সাংস্কৃতিকভাবে মেধাবীদের মেধা বিকাশের কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার তৃণমূলে সাংস্কৃতিকভাবে মেধাবীদের মেধা বিকাশের উদ্যোগ নিয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব সংস্কৃতিমনা মানুষ আছে তাদের...

মস্কো আগ বাড়িয়ে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না : পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে মস্কো আগ বাড়িয়ে তা ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।পুতিন...

মিরাজের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

মেহেদি হাসান মিরাজের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকী রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ।আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৫ রানে...

Recent Comments