24 C
Bangladesh
Wednesday, December 7, 2022
Home রাজনীতি নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় কেন, গণভবনে আলোচনায় বসবেন শেখ হাসিনা

নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় কেন, গণভবনে আলোচনায় বসবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরে গেছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি প্রার্থী।

অথচ নির্বাচন শুরুর আগে একটা ধারণা প্রচলিত ছিল যে, বিরোধী দলহীন এই স্থানীয় নির্বাচনে যারা সরকারি দলের প্রতীক নৌকা পাবেন তাদের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে।

কিন্তু দলটির অনেক নেতারা এখন বলছেন, প্রার্থী মনোনয়নে ভুলের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী একটি বেসরকারি সংস্থা ব্রতী’র শারমিন মুরশিদ অবশ্য বলছেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ছিলো শাসক দলের জন্য আত্মঘাতী এবং দলের মধ্যকার বিশৃঙ্খলা এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাইরে চলে এসেছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন তৃনমূলকে পাশ কাটিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ায় অনেক জায়গায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একজোট হয়েছিলেন দলটির অন্য অংশগুলো। আবার এই অংশগুলোকে অনানুষ্ঠানিক সমর্থন বা ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোটাররাও।

আর কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বিরোধী দল নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে না থাকায় তারা বহু জায়গায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেয়াকে অনুমোদন দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, আজই গণভবনে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীর সাথে আলোচনা করবেন তারা।

দলের ঘাঁটিতে নৌকার হার

প্রায় সাড়ে চার হাজারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের সাত দফায় নির্বাচন শেষ হয়েছে সোমবার।

নির্বাচনে প্রায় ১৬০০র বেশি ইউনিয়নে দলের প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগেরই নেতা যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এর মধ্যে এমন কিছু এলাকা আছে যেসব এলাকাগুলো দীর্ঘকাল ধরেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত এলাকা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত।

এর মধ্যে আছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, পাবনা সদর উপজেলা ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর।

বোয়ালমারীর দশটি ইউনিয়নের নয়টিতেই নৌকার প্রার্থীরা হেরে গেছে এই নির্বাচনে। এর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন দলটির তিন জন প্রার্থী।

বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুসা মিয়া শুধু বলেছেন, “এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমি আর কিছু বলতে পারবো না।”

এই এলাকায় আওয়ামী লীগের তিন নেতার মধ্যে প্রবল দ্বন্দ্ব। এ তিন নেতা হলেন দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার। আর এখন এমপি মনজুর হোসেন।

এর আগে নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসনের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতেই পরাজিত হয়েছে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর ছাড়াও রাজবাড়ী, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরে গেছেন।

পাবনায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। জেলা সদরের নয় ইউনিয়নের সব কটিতে নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল করিম বিবিসিকে বলছেন নির্বাচনের এমন ফল নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন তারা।

“দল থেকে তদন্ত করছি। প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চিঠিও দিয়েছি। এ জবাব আমরাও চাই যে কেন নৌকার প্রার্থীরা হারলো। স্থানীয় নেতা ও এমপিরাই এগুলো ভালো বলতে পারবেন,” বলছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল করিম।

অর্থাৎ তার কথায় এটি স্পষ্ট যে স্থানীয় নেতা ও এমপিদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সবগুলোতেই চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেরে গেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলকে অবহেলা করা হয়েছে বলেই এমন অবস্থা হয়েছে।

“জেলা কমিটি তৃণমূলকে পাশ কাটিয়ে প্রার্থী দিয়েছে যা আমরা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। তাকে তৃণমূলের রেজুলেশন দেখিয়েছি যে আমরা প্রার্থী হিসেবে কাদের সুপারিশ করেছিলাম আর কারা মনোনয়ন পেয়েছে,” বলছিলেন তিনি।

কুমিল্লায় তেইশটি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে মাত্র ৭টিতে, ১৫টি বিদ্রোহী ও ১টিতে স্বতন্ত্র। অথচ জেলা দু জন প্রভাবশালী মন্ত্রী আছেন।

তবে সেখানকার নেতারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

শাসক দলের জন্য আত্মঘাতী নির্বাচন

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ বলেন এবারের নির্বাচনটি ছিলো সহিংস ও শাসক দলের জন্য আত্মঘাতী।

“আওয়ামী লীগের বিরোধী যারা অনানুষ্ঠানিক অংশ নিয়েছে তারাই বরং সফল। এ নির্বাচন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভিতকে আহত করেছে কারণ দলের প্রবল সাংগঠনিক সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু কয়জনকে বিদ্রোহী হিসেবে বাদ দিবে তারা? বাদ দিলে কি সুখকর হবে”?

তিনি বলেন দলের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তারা কিভাবে সামাল দেয় সেটিই হবে এখন দেখার বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

কর জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প অর্গানাইজেশন দোষী সাব্যস্ত 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের দ’ুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে কর জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক জুরি মঙ্গলবার ‘দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ও...

রূপকথার ট্রাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

এ যেন রূপকথার গল্প। সাবেক বিশ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এবং এবারের বিশকাপের আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে...

রামোসের হ্যাট্টিকে ১৬ বছর পর কোয়াটার্র ফাইনালে রোনালদোর পতুর্গাল

স্ট্রাইকার গনসালো রামোসের হ্যাট্টিকে  সুইজারল্যান্ডকে বড়  ব্যাবধানে  হারিয়ে কাতার বিশকাপের কোয়াটার্র ফাইনাল নিশ্চিত করেছে  পতুর্গাল। টুর্নামেন্টে আজ শেষ ষোলোর...

বাংলাদেশ এখন আদর্শ বিনিয়োগের কেন্দ্র : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ স্থান হিসেবে বর্ণনা করে পারস্পরিক সুবিধার্থে বৃহত্তর বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগ কামনা করেছেন।তিনি...

Recent Comments