26 C
Bangladesh
Friday, October 22, 2021
Home রাজনীতি বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

নির্বাচনের প্রস্তুতি, নাকি আন্দোলন। জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব, না সখ্য। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নীতি কী হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় এখনো স্পষ্ট নয় বিএনপির রাজনৈতিক নীতি-কৌশলে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন অনেকটা দিশাহীন অবস্থার মধ্যে আছে।

আজ ১ সেপ্টেম্বর, বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চার দশক পার করা দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নানা হিসাব-নিকাশে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, রাজনীতিতে বিএনপি এখন বিশেষ ভূমিকায় নেই। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের দিকটি এখনো স্পষ্ট নয়। দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও কাটেনি। এর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই নির্বাচন হওয়ার কথা। তখন বিএনপির বয়স হবে ৪৫–এর বেশি। কিন্তু ওই নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত, সে প্রশ্ন উঠেছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

বহুদিন ধরে বিএনপিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলেরও পুনর্গঠন চলছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই পুনর্গঠন হচ্ছে, তা দলকে সংগঠিত করার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনেকে অভিযোগ তুলছেন। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত গত আগস্ট মাসে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবা–বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামানসহ সিলেটে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দেড় শতাধিক নেতার পদত্যাগ। স্বেচ্ছাসেবক দলের সিলেটে জেলা ও মহানগর কমিটিতে ‘ত্যাগীরা মূল্যায়ন না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির সূত্র জানায়, দলে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় গঠিত একাধিক প্রতিনিধিদল এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত। তারা এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে কমিটি করছে। কিন্তু এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দলের নেতারা বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠনে তিনটি পন্থা হতে পারে। প্রথমত, সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটাভুটি করে। সেটা না হলে এলাকায় দলের প্রতিষ্ঠিত এক বা একাধিক নেতার অভিভাবকত্বে কমিটি হতে পারে। সেটাও সম্ভব না হলে শীর্ষ নেতৃত্বের গোপন জরিপেও কমিটি হতে পারে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় কমিটি দেওয়া হচ্ছে, তাতে না হচ্ছে তৃণমূলে গণতন্ত্র চর্চা, না এলাকায় দলের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের অভিভাবককে কেন্দ্র করে কমিটি হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে নিয়োগকৃত প্রতিনিধিদল এলাকায় এলাকায় গিয়ে নেতৃত্ব ঠিক করে দিচ্ছেন। এটা করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসততা ও অনৈতিকতার অভিযোগ উঠছে, ফলে একটা অংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে এলাকায় অভিভাবক পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের গুরুত্বহীন মনে করছেন। যদিও এ বিষয়ে নেতাদের কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদ প্রথম আলোকে বলেন, সমস্যা হচ্ছে কমিটি দেওয়ার সময় নিয়োগকৃত নেতারা শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ব্যবহার করছেন। ফলে এক পক্ষ ভাবছে, শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দে তিনি নেতা হয়েছেন, অন্যরা মনে করছেন শীর্ষ নেতৃত্বের কারণে তিনি বাদ পড়েছেন। এটা দলের জন্য ক্ষতিকর প্রক্রিয়া।

অবশ্য এই প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারীরা বলছেন, দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শীর্ষ নেতৃত্ব এই কৌশল নিয়েছেন।

বিএনপির টিকে থাকা

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরের মধ্যে বিএনপি এখন যে সবচেয়ে সংকটাপন্ন সময় পার করছে, তা নিয়ে দলটির নেতা–কর্মীদের মধ্যে দ্বিমত নেই। এর মধ্যে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অনেক দিন কারাগারে ছিলেন। নির্বাহী আদেশে বাইরে থাকলেও পুরোপুরি মুক্ত নন। তার ওপর তিনি বেশ অসুস্থ। তাঁর অবর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী বড় ছেলে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল চালাচ্ছেন। কিন্তু দলের নীতি–কৌশল নির্ধারণে নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐক্য–সংহতি দরকার, সে ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে অনেক।

গত ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে দলটি। এই সময়ে সারা দেশে অসংখ্য নেতা-কর্মী হামলা, মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য সংরক্ষণ সেলের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৫৯৩টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৯ জনকে। এই সময়ে ১ হাজার ৫২৬ জন খুন ও ৪২৩ জন গুমের শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুরুতর আহত হন ১১ হাজার ১২৬ জন।

২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পর পর তিনটি সাধারণ নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনেও একই পরিণতি হলে বিএনপির নেতৃত্ব এবং এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই সংশয় দেখা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপির পাশে দৃশ্যমান কোনো বহিঃশক্তি নেই। একতাবদ্ধ হয়ে যে কাজ করা, বিএনপির ভেতরে সেটাও নেই। তবু আমি বলব, এত জুলুম, নির্যাতনের মধ্যেও যখন বিএনপি বেঁচে আছে, তখন বিএনপি বেঁচে থাকবে।’

বিএনপির নেতারাও মনে করেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি টিকে আছে, এটাই বড় সাফল্য। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও বিএনপির বড় সাফল্য হচ্ছে, বিএনপি ভাঙেনি। ১৯৮১ সালের পর বিএনপি ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপিকে ভাঙার জন্য দুটি কমিটিও করে দিয়েছিল, কিন্তু পারেনি। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, দলটি এখনো প্রাসঙ্গিক, যার প্রমাণ প্রতিদিনই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-নেতাদের বিএনপিকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আগামী দিনে এই প্রাসঙ্গিকতা বিএনপি ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ, বিএনপি একটা বড় জনসমর্থন রয়েছে, কিন্তু সেটাকে ক্ষমতাসীনদের বিকল্প শক্তি হিসেবে হাজির করার জন্য যে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও দূরদর্শী নেতৃত্বসহ প্রাসঙ্গিক অন্য শর্তগুলো পূরণ করা দরকার, সেখান থেকে বিএনপি এখনো অনেক দূরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

সবাই কেন এমন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে শুরু করেছে?

অনেকেরই হয়তো চোখ এড়ায়নি যে পৃথিবীর প্রধান সামরিক শক্তিগুলো ইদানিং ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, এমনকি...

দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধানের উপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যম রপ্তানি বাস্কেট আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী...

সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধনকালে আশা প্রকাশ করেন, রপ্তানি মেলা, বাণিজ্য মেলা, রপ্তানিকারকদের সম্মেলন, ক্রেতা-বিক্রেতা মেলা...

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু করবেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেটওয়ার্ক চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন 'ট্রুথ সোশ্যাল'।

Recent Comments