33 C
Bangladesh
Sunday, July 25, 2021
Home বিনোদন শবনম, শাবানা, জহির রায়হান, এহতেশামের মত বাঙালিদের অবদান আজকের পাকিস্তান যেভাবে ভুলে...

শবনম, শাবানা, জহির রায়হান, এহতেশামের মত বাঙালিদের অবদান আজকের পাকিস্তান যেভাবে ভুলে গেছে

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয় ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিটি দিয়ে। এটি মুক্তি পায় ২৫শে মে ১৯৫৯। ‘সামাজিক বাস্তবতা’ নিয়ে ভারতে তৈরি ‘পথের পাঁচালি’ আর ‘দো বিঘা জমিন’ ছবি দুটি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে।

ছবিটির কাহিনি নেয়া হয়েছিল বাঙালি ঔপন্যাসিক মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ থেকে। কাহিনিটি বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন জহির রায়হান এবং সেটি উর্দুতে অনুবাদ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ।

ছবিটির প্রযোজক ছিলেন নোমান তাসির এবং পরিচালক এ জে কারদার। সঙ্গীত রচয়িতা ছিলেন তিমির বরণ এবং চিত্রনাট্য ও গানের কথা ছিল ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’র শুটিং হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে এবং প্রধান ভূমিকায় অভিনেতা অভিনেত্রীরা ছিলেন খান আতাউর রহমান, তৃপ্তি মিত্র এবং জুরাইন রক্ষী।

মেঘনা নদীর পাড়ের এক গ্রামের মাঝিদের জীবন সংগ্রাম এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রের সাথে তাদের লড়াইয়ের কাহিনি এটি।

ছবিটি পাকিস্তানে তৈরি প্রথম আর্ট ফিল্ম। সে কারণেই হয়ত ছবিটি পাকিস্তানে বক্স-অফিস সাফল্য পায়নি। তবে ‘দ্যা ডে শ্যাল ডন’ নাম দিয়ে ছবিটি যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রদর্শিত হয়, তখন এটি খুবই সমাদৃত হয়।

চলচ্চিত্রটি ১৯৬০ সালে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। কিন্তু অস্কার না পেলেও ছবিটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কারের জন্য মনোনীত ছবির তালিকায় স্থান পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’ বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং বেশ কিছু পুরস্কার পায় ছবিটি, যার মধ্যে ছিল মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার। আমেরিকায় রবার্ট ফ্লাই হার্টলি ফাউন্ডেশনে এটি বিদেশি ভাষার শ্রেষ্ঠ ছবির সম্মান পায়। ছবিটি ইংরেজি ও ফরাসি সাবটাইটেল সহ প্রদর্শিত হয় আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পূর্ব আফ্রিকা ও চীনে।

পকিস্তান চলচ্চিত্র শিল্পের জন্মলগ্ন

ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রথম ছবি ছিল একটি বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। এটি মুক্তি পায় ৩রা অগাস্ট ১৯৫৬ সালে।

ছবিটির নির্মাতা ও পরিচালক ছিলেন আবদুল জব্বার খান, যিনি নিজে ছিলেন একজন মঞ্চাভিনেতা। চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পর্কে তিনি জানতেন খুবই কম। কিন্তু ছবি তৈরির অদম্য ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে তিনি একটি প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করেছিলেন ইকবাল ফিল্মস নামে। তার লেখা উপন্যাস ‘ডাকাত’ অবলম্বনে তিনি তৈরি করেন ‘মুখ ও মুখোশ’।

ছবিটি মুক্তি পায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং খুলনায়। কারিগরি দক্ষতার অভাবে চলচ্চিত্রটি তেমন সাড়া জাগাতে না পারলেও এই ছবির হাত ধরেই পূর্ব পাকিস্তানে ছায়াছবি নির্মাণের দরোজা খুলে যায়।

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বিল- ১৯৫৭’ পেশ করেন, যে বিল পাসের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন’।

ঢাকায় ১৯৬০ সালে তৈরি হয় আধুনিক একটি ফিল্ম স্টুডিও, যার সমকক্ষ কোন চলচ্চিত্র স্টুডিও পশ্চিম পাকিস্তানে তখন ছিল না।

এরপর তৈরি হয় ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘চান্দা’। এই ছবির হাত ধরে পূর্ব পাকিস্তানে একের পর এক উর্দু চলচ্চিত্র তৈরির জোয়ার আসে। উর্দু চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে পশ্চিম পাকিস্তানে এই ছায়াছবি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। আর এই ছবি থেকেই উঠে এসেছিলেন এই শিল্পের শ্রেষ্ঠ কিছু অভিনেতা অভিনেত্রী, সঙ্গীতকার, সঙ্গীতশিল্পী এবং পরিচালক।

পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তৈরি হয় ৬৪টি ছায়াছবি। এর মধ্যে মাত্র ৬টি প্রদর্শিত হয় পশ্চিম পাকিস্তানে।

পূর্ব পাকিস্তানে নির্মিত যে ছবিগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল তার মধ্যে ছিল ‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘সঙ্গম’, ‘মিলন’, ‘বন্ধন’, ‘কাজল’, ‘বাহানা’, ‘লাস্ট স্টেশন’, ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ’, ‘চাকোরী’, ‘দর্শন’, ‘ছোটে সাহেব’, ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’, ‘তুম মেরে হো’, ‘চাঁন্দ আওর চাঁন্দনি’, ‘কুলি’, ‘দাগ’, ‘কুঙ্গন’, ‘আনাড়ী’ এবং ‘শহীদ তিতুমীর’।

ঢাকার উর্দু ছায়াছবির জগৎ থেকে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে যারা উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী শবনম, শাবানা, নাসিমা খান, সুলতানা জামান, রেশমা এবং কবরী। অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন রহমান, আনোয়ার হোসেন এবং নাদিম।

পরিচালকদের মধ্যে নাম করেছিলেন এহতেশাম, মুস্তাফিজ, রহমান, জহির রায়হান, নজরুল ইসলাম এবং খান আতাউর রহমান। কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আখতার ইউসুফ, শাহরিয়ার ইউসুফ এবং শাহরিয়ার সিদ্দিকী আর সঙ্গীতকারদের মধ্যে রবীন ঘোষ, মুসলেহ উদ্দিন ও বশির আহমেদ।

পরে পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু ছায়াছবির জগতে ২৫ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য করেছেন শবনম।

রহমানের কাজ ছিল মূলত পূর্ব পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

আওয়ামী লীগ থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি

আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে।আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে এই অব্যাহতি দেওয়ার...

পূর্বচীনের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন ইন-ফা

পূর্ব চীনে রবিবার টাইফুন ইন-ফার প্রভাবে প্রবল বাতাস বইছে এবং ভারী বৃষ্টিপাত চলছে, ইন-ফা আজ বিকালে অথবা সন্ধ্যার দিকে নিঙবোর প্রধান নৌ...

ব্রিটেনে জলবায়ু আলোচনায় ৫১ দেশের অংশগ্রহণ

ব্রিটেন আয়োজিত জলবায়ু আলোচনায় বিশ্বের ৫১টি দেশের জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।গ্লাসগোয় নভেম্বরে যে সিওপি২৬ জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন হবে...

দাউদকান্দিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ

জেলার দাউদকান্দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর নির্মিত ঘর পরিদর্শন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার...

Recent Comments