27 C
Bangladesh
Thursday, February 9, 2023
Homeজাতীয়শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

2005প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য শিল্প কারখানায় শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের মালিক-শ্রমিকের একটা সুন্দর সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। মালিকদের মনে রাখতে হবে যে, শ্রমিকের উৎপাদনমুখী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হলে শ্রমিকরা আনন্দের সাথে কাজ করবে। এতে উৎপাদন ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে বেশী লাভবান হবে মালিকরাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা একান্তভাবেই জরুরী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদ্যমান উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আমরা লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আজকে প্রবাসে যেই শ্রমিকরা যান তাদের কল্যাণের জন্য সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে। যেখানে সকল তথ্য থাকে। তাদের অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। তারা কোথায় কাজ করবে, বেতন কত পাবে, আদৌও তারা বেতন পাচ্ছে কিনা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এসব বিষয় তদারকির ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি।

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বেতন বাড়ানোর জন্য তিনিই ছিলেন শ্রমিক পক্ষের ’বার্গেনিং এজেন্ট’। ’৯৬ পরবর্তী তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় এবং ২০০৯ সালের বিশেষ উদ্যোগের ফলে শ্রমিকদের মজুরি কয়েক দফায় বেড়ে বর্তমানে পাঁচ হাজার তিন শ’ টাকা হয়েছে। এজন্য মালিক পক্ষের অনেক দাবিও সরকার মিটিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত করতে হলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা চালু করতে হবে, শ্রমিকদের স্বার্থও দেখতে হবে। কারণ তাদের শ্রমেই তো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের মূল্য আওয়ামী লীগের কাছে অনেক বেশি। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তাঁর সরকার এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রমজান মাসেও আন্দোলনরত শ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছিল। সারের দাবিতে আন্দোলন করা ১৮ জন শ্রমিককে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিলো। কিন্তু এখন দেশে সে অবস্থা নেই। দেশের শ্রমজীবী মানুষ এখন নিয়মিত বেতন-ভাতা, মজুরি পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক বন্ধ কারখানা চালু করেছি। অনেক কারাখানার যন্ত্র পুরাতন হয়ে গেছে। সেগুলো দিয়ে ভালো উৎপাদন করা সম্ভব না। তাই সেগুলো চালু করতে যা যা করা দরকার আমরা করছি।
সারাদেশে প্রায় একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী যত্রতত্র শিল্প কারখানা গড়ে না তুলে এসব অঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, যত্রতত্র জমি কিনে শিল্প গড়ে না তুলে সারাদেশে অন্তত একশো অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। সেখানে বিনিয়োগ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

Most Popular

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

Recent Comments