দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াইয়ের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আজ সকাল ১১টায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করতে চায় টাইগাররা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব। তার মতে, দলের বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতি হয়েছে, যা এই সিরিজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মিরাজ বলেন, বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে। বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে, ব্যাটাররাও রান পাচ্ছেন। দুই বিভাগের সমন্বয় ঠিক থাকলে ইতিবাচক ফল আসবে বলেই বিশ্বাস তার। মিরপুরের উইকেট নিয়েও কথা বলেছেন টাইগার অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরে এই ভেন্যুর উইকেট নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও মিরাজ মনে করেন, এখন আর মিরপুরকে শুধুমাত্র স্পিন সহায়ক বা ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন উইকেট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে ভালো মানের উইকেট তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দলের বর্তমান কম্বিনেশন নিয়েও সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক। অভিজ্ঞদের বিদায়ের পর নতুনদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন দল অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ব্যাটিং ইউনিটে তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও লিটন দাসদের ওপর আস্থা রাখছেন মিরাজ। চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়েও আশাবাদী তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া এই অলরাউন্ডার সুযোগ পেলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলেই বিশ্বাস অধিনায়কের।
এদিকে তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে ভবিষ্যতের বড় সম্পদ হিসেবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতিময় বোলারদের গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মিরাজ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ওপরও আস্থা রাখছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাট হাতে খুব একটা ভালো সময় পার করছেন না টাইগার অধিনায়ক। সাম্প্রতিক কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে না পারায় তাকে ঘিরে সমালোচনা হয়েছে। যদিও এসব সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন মিরাজ। তার মতে, ভালো না খেললে সমালোচনা হবেই, আর সেটি একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য মেনে নেওয়ার বিষয়।
অন্যদিকে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে দায়িত্ব ছেড়েছেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিরাজ বলেন, এটি স্থানীয় কোচদের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। তার বিশ্বাস, স্থানীয় কোচরাও যথেষ্ট দক্ষ এবং সুযোগ পেলে দলের জন্য ভালো কাজ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ১৫ বছর পর বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। এখন দেখার বিষয়, ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কতটা দাপট দেখাতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন