নামায
আমরা আল্লাহর উদ্দেশে নিজেদের সমর্পণকে বুঝি। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য।
এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার সময় কিছু নিয়ম জানা থাকলে নামায ভঙ্গ নাও হতে পারে।
১. নামাযের মধ্যে কথা বলা । চাই ভুলে বা ইচ্ছায় ।
২. নামাযের মধ্যে উহ-আহ, ইস্ শব্দ করা। অথবা উচ্চঃস্বরে কাঁদা ।
উল্লেখ্য, যদি কারোর জাহান্নামের কথা মনে পড়ার কারণে কান্না চলে আসে, অথবা জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামতের কথা স্মরণ হওয়ায় উৎফুলে আওয়াজ বের হয়। আর উভয় অবস্থায় এ আওয়াজ যদি উচ্চঃস্বরেও হয় তাহলে তাতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না । ৮১
৩. বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া শব্দ করে কাশা বা গলা ঝাড়া। অবশ্য বিশেষ সমস্যা হলে যথাসম্ভব অনুচ্চঃস্বরে কাশি দেয়া বা গলা ঝাড়া বৈধ । এতে নামাযে কোনো ক্ষতি হবে না ।
৪. নামাযে হাঁচি দেয়ার পর ‘আলহামদুল্লিাহ' পড়া বা অন্যের হাঁচির জবাবস্বরূপ ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ' পড়া। ৮২
আরও খবর পড়ুন :
(খ) ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পরবর্তী সুন্নাতসমূহ
(গ) যে সাত শ্রেণীর লোক আরশের নিচে ছায়া পাবে
৫. নামাযে কুরআন শরিফ দেখে পড়া।
৬. নামাযে সিনা কিবলার দিক থেকে অন্য দিকে ঘুরানো। অবশ্য চোখ, মুখ ঘুরালে নামায নষ্ট হবে না। কারণ, নামাযে চোখ, মুখ ঘুরানো মাকরুহ ।৮৩
৭. নামাযে সালামের জবাব দেয়া ।
৮. নামায পড়া অবস্থায় চুল বাঁধা। ৮৪
৯. নামাযে খাওয়া বা পান করা। যদিও তা একটি তিল পরিমাণও হয় আর তা ইচ্ছা করে মুখে নিয়ে চিবিয়ে খায়। অবশ্য যদি কোনো জিনিস দাঁতের ফাকে আটকে থাকে আর তার পরিমাণ বুটের চেয়ে ছোট বা তিল, সরিষা, মুগ, মসুরির মতো হয়—তা গিলে ফেললে নামায নষ্ট হবে না। তবে যদি পরিমাণে বুটের চেয়ে বড় হয় তাহলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ইচ্ছা করে এরূপ করা যাবে না ।
১০. নামাযে কোনো সুসংবাদ শ্রবণে 'আলহামদুল্লিাহ' বলা বা কোনো দুঃসংবাদে ‘ইন্নালিল্লাহ' বলা বা অন্যকোনো করণে, এরূপ শব্দ উচ্চারণ করা ।৮৫
১১. নামাযরত মহিলার শিশু তার স্তন থেকে দুধ পান শুরু করলে বা স্বামী এসে তাকে চুম্বন করলে, এ উভয় অবস্থায় ঐ মহিলার নামায ভেঙ্গে যাবে। তবে হ্যাঁ, ঐ শিশু যদি স্তন দু-এক টান চুষে আর এতে স্তন থেকে দুধ বের না হয় তাহলে নামায নষ্ট হবে না ।
১২. আল্লাহু আকবার বলার সময় যদি কেউ ‘আল্লাহর’ আলিফ টেনে পড়ে বা ‘আকবারের' আলিফ টেনে পড়ে এবং মনে মনে এর অর্থও বুঝে নেয়, তাহলে নামায ভেঙ্গে যাবে। ৮৬
১৩. নিজ ইমাম ব্যতীত অন্য কাউকে নামাযে লুকমা দেয়া ।
১৪. মুক্তাদি নামাযে কোনো রুকন ইমামের আগে করলে মুক্তাদির নামায নষ্ট হয়ে যাবে ।
১৫. নামাযে শব্দ করে হাসা ।
১৬. বিবস্ত্র ব্যক্তির ছতর ঢাকার মতো কোনো জিনিস পাওয়া যাওয়া।
১৭. পট্টির উপর মাসেহ করে নামায শুরু করার পর পট্টি পড়ে যাওয়া ।
১৮. নামাযে বেহুশ বা পাগল হওয়া ।
১৯. ইশরায় নামায আদায়কারী ব্যক্তি নামাযের মধ্যে রুকু-সিজদা করার শক্তি ফিরে পাওয়া।
২০. ফজরের নামাযে সূর্য উদিত হয়ে যাওয়া ।
২১. দুই ইদের নামাযে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া।
২২. জুমার নামাযে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়া ।
২৩. মোজার উপর মাসেহ কারীর নামাযের মধ্যে মাসেহের সময় পূর্ণ হয়ে যাওয়া।
২৪. সর্বপুরি আমলে কাসির করা। অর্থাৎ নামাযে উভয় হাতের দ্বারা বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ দ্বারা এমন কোনো কাজ করা যা দেখে অন্য কেউ মনে করবে, লোকটি নামায পড়ছে না ।
টিকা: হিদায় (৮১), শরহে
বেকায়া (৮২), তানবির (৮৩), প্রাগুক্ত (৮৪), তানবির (৮৫), দুররুল মুখতার (৮৬)