কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক মারা গেছেন। সোমবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে তার অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় ওই চিকিৎসককের মৃত্যুর খবরে জেলার গোটা স্বাস্থ্য বিভাগে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর আগে শনিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর রেইসকোর্স এলাকার শাপলা ভবনে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক এবং তার স্ত্রী ফারহানা আফরিন হিমিকে উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করেন একই ভবনের কয়েকজন উগ্র বাসিন্দা। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই চিকিৎসককে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ এবং স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জানা গেছে, নগরীর রেইসকোর্স এলাকার শাপলা ভবনে ফ্ল্যাট মালিক ওনার্স এসোসিয়েশনের কমিটি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই সূত্র ধরে একই ভবনের বাসিন্দা সালাহউদ্দিন মাহমুদ পাপ্পুর নেতৃত্বে ডা. জহিরুল হকের চেম্বারে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। এসময় ওই চিকিৎসককের স্ত্রী ফারহানা আফরিন হিমিকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা আহত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এতে গুরুতর আহত ডা. জহিরুল হককে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে তার ব্যপক জখম হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ডাক্তার জহিরুল হককে দুই দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহাম্মেদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সালাউদ্দিন মাহমুদ পাপ্পু নামের এক হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।