আজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্তত ৩৫টি রাজনৈতিক দল রাজধানীতে সমাবেশ করবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
তথ্যমতে, আওয়ামী লীগকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এবং বিএনপিকে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করছেন।
এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজকের (২৮ অক্টোবর) সমাবেশ ঘিরে উদ্বেগের কারণ ১৭ বছর আগের এই দিনটির স্মৃতি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সমাবেশ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। দিনভর সংঘাত, সহিংসতায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। একপর্যায়ে জারি হয় জরুরি অবস্থা। সেই একই ইস্যু নিয়ে আজকে এই তিন দলের সমাবেশে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে, জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকতে বলেছে ক্ষমতাসীন নেতারা।
অন্যদিকে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। মাঠে রয়েছেন র্যাব, পুলিশের ১৫ হাজার সদস্য। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও। ঢাকার প্রবেশপথ ও মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, সমাবেশের সময় যাতে নাশকতার জন্য কেউ কোনো অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন করতে না পারে সেজন্য ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
আরও খবড় পড়ুন: ১ মণ দুধ দিয়ে গোসল করে যুবলীগ নেতার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, সংবিধানে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন, মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ নিরাপত্তাও দিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মসূচির আড়ালে কেউ সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সমাবেশকে ঘিরে ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। এ কারণে ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশের টহল টিম। ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করা হচ্ছে।