ইসরায়েলের হামলায় গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে গাজাবাসীদের সেখানে বসবাস করা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মধ্যেও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। কারণ তাদের কাছে রয়েছে খাদ্য ও জ্বালানির বিশাল মজুদ।
আরব এবং পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েলি অভিযোগের বাস্তবতা রয়েছে, হামাস তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য খাদ্য ও জ্বালানি মজুদ করেছে। হামাস বলছে, তারা মাটির নিচে টানেল তৈরি জন্য বছরের অধিক সময় ব্যয় করেছে। আর দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ রেখেছে।
হামাসকে নির্মূল করার জন্য স্থল অভিযান চালানোর জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। যদিও তেল আবিব দীর্ঘ তিন সপ্তাহের অধিক সময় ধরে গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গাজায় স্থল অভিযান চালাতে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রকেট ও যানবাহনের জন্য হামাসের কাছে লাখ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রয়েছে। বিস্ফোরক, দাহ্য পদার্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র আছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রেখেছে তারা।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গাজায় হামাস সদস্যের সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। কোনো ধরনের সরবরাহ না থাকলেও তারা তিন থেকে চার মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।
এদিকে হামাসের কাছে জিম্মি থাকাদের মধ্যে চার ইসরায়েলিকে মুক্তি দিয়েছে তারা। যারা মুক্তি পেয়েছে তারা বলছেন, হামাস তাদের ওষুধ, শ্যাম্পু এবং নারীদের প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করেছে। কিন্তু গত ৭ অক্টোবর গাজাকে অবরুদ্ধে করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে গাজায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে হামাসের কাছে এসব পণ্য থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিসপত্রের মজুত রাখা হয় সুড়ঙ্গের ভেতরেই। তবে হামাসের কাছে প্রকৃতপক্ষে কী কী আছে, সেসব পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ২০ লাখের বেশি মানুষ পানি ও খাবারের চরম সংকটে পড়েছেন। কিন্তু এতে হামাস কোনো ধরনের সংকটে পড়েছে বলে মনে হয় না। কারণ, তাদের লড়াইয়ের ক্ষমতায় কোনো ধরনের কমতি দেখা যাচ্ছে না। সর্বাত্মক অবরোধ জারি করার পরও এ পর্যন্ত ইসরায়েলে কয়েকশ রকেট ছুড়েছে হামাস।
সূত্র: স্যাটেলটাইমস