প্রায় তিন মাস পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই নতুন করে শুরু হচ্ছে টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে বাংলাদেশকে ৩১ মার্চ ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে ৭৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে দশম স্থানে। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে এখনই অতিরিক্ত চাপ নিতে চান না দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, র্যাংকিং নিয়ে বেশি চিন্তা না করে ভালো ক্রিকেট খেলাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, র্যাংকিংয়ে উন্নতি অবশ্যই দরকার, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য নয়। যেকোনো দলই চায় র্যাংকিংয়ে উপরের দিকে থাকতে। এজন্য ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সবশেষ সিরিজ খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজে টাইগাররা ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। কোচ সিমন্স মনে করেন, পাকিস্তান সিরিজের উইকেট আগের সিরিজের তুলনায় আরও ভালো হতে পারে। তবে দলের কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। বিশেষ করে মিডল ওভারে ব্যাটিং ও বোলিং নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এই সময়ে বাংলাদেশ খুব বেশি রান তুলতে পারছে না এবং বোলাররাও নিয়মিত উইকেট পাচ্ছেন না।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশের। লাহোরে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। এবার সেই ফল বদলাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ দলটি। সিমন্স বলেন, এবার ভালো শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। এই সিরিজ থেকেই বিশ্বকাপের পথচলা শুরু হবে। এদিকে পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার গুঞ্জন ছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ে কোচ সিমন্স বলেন, সাকিবের ফেরার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে যা শুনেছেন, সেটুকুই জানেন।
আগামী বিশ্বকাপের কন্ডিশন মাথায় রেখে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন টাইগার কোচ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য অন্তত তিনজন পেসার নিয়ে দল সাজানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তাঁর মতে, সেসব দেশের উইকেটে পেসারদের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হবে।