ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিট থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন হারে সরবরাহ চললে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০২৩ সালের মার্চে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সাল থেকে ভারত থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল আনা হতো। তবে পাইপলাইন চালু হওয়ার পর পরিবহন সময় এবং খরচ দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যা দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আতঙ্কে এই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে বিপিসির মজুতে এক লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ভারতের সঙ্গে আরও সমন্বয় বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকার আশা করছে, নতুন চালানগুলো নিয়মিতভাবে দেশে পৌঁছাতে শুরু করলে জ্বালানি তেলের সাময়িক সংকট ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।