দেশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থিতিভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১

খেলাপি ঋণ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৭ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ৭ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

দেশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থিতিভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বর্তমান সংসদ সদস্যদের কারো কারো ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। গতকাল সোমবার সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে এই তথ্য জানান। ফেনী-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বৈশ্বিক অস্থিরতা, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং অতীতের অনিয়মসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল।


অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ করেন। তালিকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এস আলমের, দুটি বেক্সিমকো শিল্পগোষ্ঠীর। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইস্পাত লি., ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড। তবে ঋণের পরিমাণ তিনি প্রকাশ করেননি।


সরকারি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ, কৃষি বিমা প্রবর্তন, বাজার তদারকি জোরদার, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ঋণ আদায় জোরদার করা এবং দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ভাতা কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এজন্য নতুন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উত্পাদন, রপ্তানি ও প্রবাস আয় বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা সব দিক একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।


ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার কৃষিঋণ মওকুফ ও স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। বাজেটে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষককে উপকৃত করবে। মোবাইল ফাইন্যান্স ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার-প্রতারণা রোধে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী, প্রাণবন্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।


অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেছেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো একটি সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯