ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
সংস্থাটির মতে, বর্তমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে এর প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি। সংস্থার প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এমন যুদ্ধ উন্নয়নকে বহু বছর পিছিয়ে দেয় এবং এর প্রভাব যুদ্ধ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে থাকে। বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শুধু জ্বালানি নয়, সার উৎপাদন এবং পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় ধরনের খাদ্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করবে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়বে। ইতোমধ্যেই মূল্যস্ফীতি ও ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম চালু না হলে দারিদ্র্য বিমোচনে গত এক দশকের অগ্রগতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান