সিলেটের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে একের পর এক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। আগের জলাবদ্ধতার সমস্যার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট, যার কারণে হারভেস্টার মেশিন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। আবার যেখানে ধান পেকে গেছে, সেখানে শ্রমিকের সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায়ও ধান কাটার সুযোগ মিলছে না।
এদিকে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৪০টি স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দেওয়া হচ্ছে। এবার প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কৃষকদের মধ্যে এখনো আশঙ্কা কাটেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, হারভেস্টার মেশিন চালাতে ডিজেল তেলের জন্য ঘুরতে হচ্ছে বিভিন্ন পাম্পে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ধান কাটার কাজ দেরি হচ্ছে এবং হাওরে আবার ঢল নামলে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একজন হারভেস্টার মালিক জানান, তেল সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রশাসনের অনুমতি লাগলেও নির্দিষ্ট পাম্পে গিয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধান কাটার গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন থাকলেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী স্লিপ নিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের জন্য স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে হাওরের কৃষকেরা এখন ধান কাটা শেষ করে নিরাপদে ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন, তবে আবহাওয়া ও জ্বালানি সংকট তাদের সেই আশাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।