পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে করা কিছু চুক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর সাময়িক শিথিলতার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গঠিত ক্যাবিনেট সাব-কমিটি কী করছে, তা স্বচ্ছভাবে জনগণকে জানানো উচিত। পাশাপাশি সরকারের ঘোষিত সংস্কার কমিশন কার্যকরভাবে দৃশ্যমান হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতে দুর্নীতি ও দলীয় স্বার্থে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে। আসন্ন বাজেটে জনবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর চাপ কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। অনুষ্ঠানে ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। বিচারকরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন।