মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্ধারিত এই বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই সংলাপ কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা। বর্তমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার আগে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
লেবাননের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বোমা হামলা ও সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানানো হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো যায়, তবে পরবর্তী পর্যায়ে সীমান্ত নির্ধারণ, ইসরায়েলে আটক লেবাননি নাগরিকদের মুক্তি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার বলেন, লেবাননের সঙ্গে বড় কোনো বিরোধ নেই এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইকে উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থ হিসেবে দেখা উচিত। তবে কূটনৈতিক আশাবাদের মধ্যেও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, যা তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে তারা কেবল ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে। এ অবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো জটিল রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ লেবাননের সঙ্গে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর সশস্ত্র উপস্থিতি এই প্রক্রিয়ার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামও জানিয়েছেন, তিনি অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়াতে চান, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সংঘাত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে কমে আসে। এখন ওয়াশিংটনের এই বৈঠককে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল