মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে টিকে থাকতে ও পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। নিজের প্রয়োজন অন্যের কাছে তুলে ধরা এবং অন্যের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো—এই দুই ক্ষেত্রেই কথাবার্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসলাম শুধু কথা বলার গুরুত্বই দেয়নি, বরং কথা বলার ক্ষেত্রে কিছু শিষ্টাচার বা আদব-কায়দা মেনে চলার নির্দেশনাও দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের জন্য এসব নির্দেশনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কোরআনের আলোকে কথা বলার অন্যতম শিষ্টাচার হলো—কথা শুরুর আগে সালাম দেওয়া, যা সম্পর্ককে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পবিত্র করে তোলে। এছাড়া প্রতিটি কথা ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করেন—এই বিশ্বাস থেকে সতর্ক ও সংযতভাবে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানুষের সঙ্গে সুন্দর ও উত্তম আচরণে কথা বলা, অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা এবং সংযত স্বরে কথা বলা মুমিনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চস্বরে চিৎকার বা অশালীন ভাষা ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এছাড়া যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা, সত্য ও সঠিক কথা বলা এবং নম্র ও কোমল ভাষায় কথা বলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গায়রে মাহরামের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সংযত ও পরিমিত ভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। মূর্খ বা অজ্ঞ লোকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পরিবর্তে ভদ্রভাবে এড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। এতে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
সূত্র: পবিত্র কোরআন (সুরা নুর: ৬১, ৩; সুরা কাফ: ১৮; সুরা বাকারা: ৮৩; সুরা লুকমান: ১৯; সুরা হুজুরাত: ৬; সুরা আহজাব: ৭০-৭১, ৩২; সুরা তোহা: ১৯; সুরা ফুরকান: ৬৩)