বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নতুন সংকটে পড়েছে দেশের চা শিল্প। বিদ্যুৎ না থাকায় বাগান থেকে উত্তোলিত কাঁচা চা-পাতার অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা গুণগত মান হারাচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ বছর চা-পাতার ফলন ভালো হলেও বাজারজাতযোগ্য চায়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চা-শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হলেও এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং রপ্তানিও কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৭২টি চা-বাগান রয়েছে এবং ২০২৫ সালে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। মৌলভীবাজার ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন বাগানের কর্মকর্তারা জানান, চা পাতা অত্যন্ত পচনশীল হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত না করতে পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উইদারিং, রোলিং ও ড্রাইংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ব্যাহত হচ্ছে। এতে শুধু উৎপাদনই নয়, চায়ের গুণগত মানও কমে যাচ্ছে।
চণ্ডিছড়া চা-বাগানের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে পাতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যয় বেড়ে লাভ কমছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে চা শিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে এবং রপ্তানিতেও বড় ধস নামতে পারে।