প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫–এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ তথ্য জানান আন্দোলনকারীরা। এর আগে সকাল ১১টার দিকে জাদুঘরের সামনের সড়কে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলমের অনুরোধে আলোচনার জন্য ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যেই সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’ ও ‘তুমি কে, আমি কে, শিক্ষক শিক্ষক’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ এলাকা। আন্দোলনকারীরা জানান, আলোচনার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা এখনো জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরিবারসহ চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।