বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো এখন আর কেবল প্রাকৃতিক জলধারা নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা শিল্পবর্জ্যের বাহক হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা

শিল্পবর্জ্য: নদী হত্যার দায় কার?

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়

বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো এখন আর কেবল প্রাকৃতিক জলধারা নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা শিল্পবর্জ্যের বাহক হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে নির্গত অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নীরবে নদী, মাটি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। টেক্সটাইল, ডাইং, ট্যানারি, কেমিক্যাল ও ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের বর্জ্য পর্যাপ্ত পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি নদী ও খালে গিয়ে পড়ছে। ফলে দেশের জলসম্পদ ক্রমেই দূষিত হয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।


রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী এই দূষণের সবচেয়ে করুণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একসময় ঢাকার প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত এই নদী এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অক্সিজেনের অভাবে নদীতে জলজ প্রাণ টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে সরকারের নদী খনন ও নৌপথ পুনরুদ্ধার উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও নৌযোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা চলছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।


তবে পরিবেশবিদদের মতে, শুধু নদী খনন যথেষ্ট নয়, কারণ দূষণের মূল উৎস বন্ধ না হলে পুনরায় নদীগুলো দ্রুত বর্জ্যে ভরে যায়। শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ না করলে দীর্ঘমেয়াদে এসব উদ্যোগ কার্যকর ফল দেবে না। শিল্পবর্জ্যের প্রভাবে শুধু পানি নয়, মাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ধাতু মিশে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং দূষিত পানি দিয়ে উৎপাদিত খাদ্যের মাধ্যমে তা মানবদেহে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের মতো শিল্পাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ ও জেলেরা এই দূষণের সরাসরি প্রভাব ভোগ করছেন, যার ফলে জীবিকা ও জনস্বাস্থ্য উভয়ই সংকটে পড়ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শিল্পকারখানায় ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ দুর্বল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী খনন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন না করলে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।


তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, নদী রক্ষায় শুধু অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়, দূষণের উৎস বন্ধে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপই হতে পারে টেকসই সমাধান।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯