পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনে নতুন নজির স্থাপন করেছে। সিআইডি জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ) নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকার সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অর্থ শনাক্ত ও জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিআইডির এই সাফল্যের প্রশংসা করেছে। তারা এটিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সহযোগিতার একটি ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সিআইডির সাইবার পুলিশের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে প্রথমবারের মতো বিদেশে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, এমটিএফই একটি ভুয়া ক্রিপ্টো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ছিল, যেখানে বিনিয়োগকারীদের কৃত্রিম লাভ দেখিয়ে প্রতারণা করা হতো। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে গেলে বিপুল অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে পাচার করা হয়।
পরবর্তীতে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইউএসডিটি শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনায় তা বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।