এক সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে যেমন আবহাওয়া ঠাণ্ডা ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে বজ্রপাতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হলেও বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি থামানো যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা জারি করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ পশ্চিম বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে অর্থাৎ মার্চ থেকে মে মাসে বাংলাদেশে বজ্রঝড়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে, যার একটি অংশ স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী নামে পরিচিত। এ সময় বজ্রপাতজনিত মৃত্যুও তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দশ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা নেই। তবে সাগরে তীব্র বাতাস থাকায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মাদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী মে মাসের শুরু থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে আপাতত দেশের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে সহনশীল রয়েছে এবং তীব্র তাপপ্রবাহ নেই। তিনি আরও জানান, চলতি এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বজ্রঝড়ের সংখ্যা বেশি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টির বেশি কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়েছে, যা গড় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে আগামী দিনগুলোতে বজ্রমেঘের সক্রিয়তা বাড়তে পারে এবং সেখানে আরও শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। মে মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াবিদরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড়ের আচরণ দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আগাম পূর্বাভাস সীমিত সময়ের জন্যই নির্ভরযোগ্য।