এক-এগারোর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেছেন, রাজনীতি থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জিয়া পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তিনি এ পদক্ষেপ নেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সেনাপ্রধান না হওয়ায় তিনি প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। একইসঙ্গে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানিয়েছেন।
তার দাবি, এভাবে চাপ সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। মাসুদ উদ্দিন আরও জানান, এক-এগারোর পর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি স্বীকার করেছেন, অবসর নেওয়ার পর অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং বিদেশে সম্পদের অবস্থান রয়েছে।
এক-এগারো প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, সে সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন মাসুদ উদ্দিন। লেখক মহিউদ্দিন আহমদ-এর মতে, ওই সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পরিবর্তনে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। একই সময় জরুরি অবস্থা জারি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন সূত্রে।
ওই সময় আলোচিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় এসব তথ্য দিয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।