বৈশাখের উৎসবমুখর পরিবেশের বদলে এবার হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে হতাশা ও বিষাদের ছায়া। আগাম বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাওরে পাকা ও কাঁচা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। আজ মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম দেখতে সফরে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আমিনুল রশিদ এবং আসাদুল হাবিব দুলু। সুনামগঞ্জ জেলাসহ আশপাশের হাওরাঞ্চলে সুরমা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে। এতে হাওর রক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিতে পড়লেও আপাতত মেরামতের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ শত শত কোটি টাকা। অনেক এলাকায় এখনো ধান কাটার কাজ শেষ হয়নি। শ্রমিক সংকট ও টানা বৃষ্টির কারণে ফসল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেক ক্ষেতেই পাকা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকের অভাবে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কাটা ধানও শুকাতে না পেরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হাওর এলাকার অনেক কৃষকই এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ভেজা ধান কম দামে বিক্রি করছেন, যেখানে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম মূল্য পাচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সচ্ছল ও ক্ষুদ্র—উভয় ধরনের কৃষকই। সিলেট বিভাগের কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে।
এদিকে কৃষকদের সহায়তায় সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য সরকারি ক্রয় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রতি বছর একই ধরনের দুর্যোগে হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ায় কৃষিতে আগ্রহ কমে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।