টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতি নয়া পাড়ার গৃহিণী ইয়াসমিন বেগম দুই সন্তানের মা। আর্থিক ও শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি আর সন্তান নিতে চান না। স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে ভয় থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করে আসছিলেন। একই কেন্দ্র থেকে তার সন্তানদের প্রাথমিক চিকিৎসাও মিলত। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ওই কেন্দ্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীসহ সাধারণ রোগের ওষুধও সরবরাহ নেই। ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু গোপালপুর নয়, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের সংকট চলছে বলে জানা গেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন এসব কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ না পাওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও বর্তমানে বহু কেন্দ্রে স্টক শূন্য। এতে প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, আগে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালাতেন। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেই কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীন আখতার বলেন, “স্টোরে বর্তমানে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বা ওষুধ নেই। এটি খুবই উদ্বেগজনক।”
টাঙ্গাইল জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক জানান, জেলার বহু উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ বলেন, সমস্যাটি পুরোনো এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।