বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর একতরফাভাবে ১৩১টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬টি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) এক বিবৃতিতে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এই চুক্তি দেশের জন্য “অশনি সংকেত” এবং এটি জাতীয় স্বার্থের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, চুক্তির ভর্তুকি সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় উৎপাদনে ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং বিদেশি পক্ষের অনুরোধে এসব ভর্তুকির তথ্যও দিতে হবে। তার মতে, এটি একটি স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে। আতাউর রহমান আরও বলেন, চুক্তিতে একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ ও বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে, যা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে এ ধরনের চুক্তি হলে তা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করে। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, জাতীয় স্বার্থ জড়িত এমন বিষয়ে স্বচ্ছ আলোচনা ও সমঝোতা জরুরি, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।