সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট প্রতিবেদনের মধ্যে আবারও আলোচনায় এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকল্পের আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে প্রতিটি বালিশ ক্রয়ে প্রায় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং পরিবহন ও স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
অডিট প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই প্রকল্পে ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। কমফোর্টার ও অন্যান্য বিছানাপত্র কেনাকাটায় বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, একটি কমফোর্টারের দাম ধরা হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা, যেখানে বাজারমূল্য ছিল এর চেয়ে অনেক কম। একইভাবে বিদেশি চাদর ও অন্যান্য সামগ্রীও বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অডিট রিপোর্ট পেশ করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।