চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে সারা দেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে তালিকা হালনাগাদ করে ‘সাঁড়াশি অভিযান’ শুরু করেছে। সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করে পুলিশ। যদিও ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনাকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চলমান বিশেষ অভিযানে একদিনেই ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, ৪৮ জন চাঁদাবাজির অভিযোগে এবং বাকিরা সন্ত্রাস, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে জানানো হয়েছে। ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে পাঁচ দিনে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “চাঁদাবাজদের বিষয়ে কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব ইউনিটকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা ও দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে প্রায় ৬৫০ জন চাঁদাবাজ ‘গডফাদার’ হিসেবে চিহ্নিত, যাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকাতেও চাঁদাবাজির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে, যেখানে শতাধিক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মাধ্যমে সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা