ঢাকার পার্ক সংস্কৃতিতে নতুন এক পরিবর্তন এসেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট সময়সূচিতে পোষা কুকুর নিয়ে পার্কে হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্ক–এ এই উদ্যোগ চালু করেছে গুলশান সোসাইটি ও ‘প্যাম্পারড পজ বাংলাদেশ’ যৌথভাবে। এতদিন ঢাকার অধিকাংশ পার্কে কুকুর নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এবার নিয়মের আওতায় সীমিতভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত কুকুর ও তাদের মালিকরা নির্দিষ্ট সময়সূচিতে পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্র ও শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত জানিয়েছেন, সাধারণ দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে এবং পোষা প্রাণী মালিকদের সুযোগ দিতে এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পার্কে প্রবেশের জন্য শুধুমাত্র নিবন্ধিত সদস্যদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং কুকুরের জন্য টিকা গ্রহণ ও লিশ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ক্লাবের সদস্যপদ ফি মাসে ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি ত্রৈমাসিক, অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক সদস্যপদের সুবিধাও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, সংগৃহীত অর্থ পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হবে।
‘প্যাম্পারড পজ বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা অহনা রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পোষা প্রাণীপ্রেমীদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এদিকে সাধারণ দর্শনার্থীরাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকের মতে, নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের কারণে কারও অসুবিধা না করে শহরে প্রাণীবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে গুলশান এলাকার আরও পার্কে একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।