প্রজনন মৌসুম শেষে মার্চ ও এপ্রিলের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন আশায় নদীতে নেমেছিলেন ভোলার জেলেরা। তবে ভরা মৌসুম চললেও

ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, দুশ্চিন্তায় ভোলার জেলেপাড়ার মানুষ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১০ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ১০ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

প্রজনন মৌসুম শেষে মার্চ ও এপ্রিলের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন আশায় নদীতে নেমেছিলেন ভোলার জেলেরা। তবে ভরা মৌসুম চললেও মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও ইলিশা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। একসময় এই মৌসুমে ইলিশভর্তি নৌকা নিয়ে ঘাটে ফিরতেন জেলেরা। এখন দিনভর নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ। ফলে আয় না থাকায় সংসার চালানো, ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং নৌকার খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।


স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, নদীতে মাছের সংকট এতটাই বেড়েছে যে অনেকে মাছ ধরা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তা করছেন। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হচ্ছেন। এনজিও ও মহাজনের ঋণের চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ইলিশা ঘাটের জেলে আব্বস মাঝি জানান, কয়েক হাজার টাকার ডিজেল খরচ করে নদীতে গিয়েও মাছ বিক্রি করে খরচ তোলা যাচ্ছে না। একই ধরনের হতাশার কথা জানিয়েছেন আবদুল হক, মো. সায়ম ও হাবিব মাঝিসহ আরও অনেক জেলে।


রাজাপুর এলাকার জেলে আজগর মাঝি বলেন, আগে একদিন নদীতে নামলেই কয়েক মন ইলিশ পাওয়া যেত। এখন দিনের পর দিন জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। এদিকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহারকে মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ী সাহাবউদ্দিন জমাদার বলেন, খুঁটা ও বিহিন্দি জালের কারণে ছোট মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব জাল বন্ধ না হলে নদীতে ভবিষ্যতে মাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।


জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী ও জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন বলেন, প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। না হলে অনেকেই বাধ্য হয়ে এ পেশা ছেড়ে দেবেন। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে ইলিশ কিছুটা কম ধরা পড়ছে। তবে জুন-জুলাই মাসে নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


জানা গেছে, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার। এছাড়া অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও লাখ ছাড়িয়েছে। ইলিশের সংকটে এখন এই বিপুল সংখ্যক জেলের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯