হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর জটিলতা নিয়ে দেশে চিকিৎসা সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) সিট না থাকায় অনেক শিশু পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বরিশালের পাঁচ মাস বয়সী শিশু বকরের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে জ্বর, পরে শ্বাসকষ্ট এবং শেষে হাম শনাক্ত হলে তাকে বরিশাল থেকে ঢাকায় একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলেও পিআইসিইউ সিট না থাকায় তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বিজয় সরণির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪ মে পিআইসিইউতে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবার ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় শিশুটির মা কোহিনূর বেগম মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অন্যদিকে শিশুটির বাবা চিকিৎসা ব্যয় ও পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, ছয় মাসের নিচে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণে ঝুঁকি বেশি থাকে। সময়মতো টিকা না পাওয়া এবং চিকিৎসা জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। এদিকে, একই ধরনের আরেক ঘটনায় চাঁদপুরের ফারজানা ইসলাম তার আট মাসের শিশুকে হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ঘোরার পরও পিআইসিইউ সিট না পাওয়ায় শিশুটি হামে মারা যায়। এই ঘটনায় তিনি শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা সেবার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, জরুরি পিআইসিইউ সেবার অভাবে অনেক শিশুর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক জানান, হামের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, একসময় দেশে ভ্যাকসিনেশন হার ৯৭ শতাংশ থাকলেও পরে তা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে আসে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, পিআইসিইউ সেবার ঘাটতি ও টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়বে।