কোরবানি ইসলামের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার সূচনা প্রথম মানব ও নবী আদম (আ.)-এর যুগ থেকেই বলে উল্লেখ করা হয়। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছর মুসলিম উম্মাহর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার ১০ বছর জীবনের প্রতিটি বছরেই কোরবানি আদায় করেছেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তিরমিজি-এর বর্ণনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির জন্য সবসময় উত্তম ও দৃষ্টিনন্দন পশু নির্বাচন করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত ও ধূসর বর্ণের খাসি করা দুটি মেষ কোরবানির জন্য ক্রয় করতেন। সুনানে ইবনে মাজাহ-এ এ বর্ণনা পাওয়া যায়।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায়, নবীজি (সা.) গরু, ভেড়া বা মেষ, দুম্বা, উট এবং ছাগলসহ বিভিন্ন পশু দ্বারা কোরবানি করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় তিনি স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গাভি দ্বারা কোরবানি করেন বলে উল্লেখ রয়েছে সহিহ বুখারি-এ। বিদায় হজে তিনি ১০০টি উট কোরবানি করেছিলেন, যার একটি বড় অংশ তিনি নিজ হাতে জবাই করেন এবং বাকিগুলো হযরত আলী (রা.) সম্পন্ন করেন বলে তাহাবি-এ বর্ণিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে কোরবানির পশু জবাই করতেন। তিনি ঈদগাহে গিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করতেন এবং উট হলে তা নহর করতেন বলে সহিহ বুখারি-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়। কোরবানির সময় তিনি পশু জবাইয়ের আগে দোয়া পাঠ করতেন এবং আল্লাহর কাছে তা কবুল হওয়ার প্রার্থনা করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে নিজের, পরিবারের ও উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি কবুল করার দোয়া করতেন সুনানে আবু দাউদ-এ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির গোশত নিজে আহার করতেন, পরিবার ও আত্মীয়দের খাওয়াতেন এবং দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি এক-তৃতীয়াংশ পরিবারকে, এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবেশীদের এবং এক-তৃতীয়াংশ গরিব ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দিতেন আল-মুগনি।