ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যার দীর্ঘ ৯ মাস পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহে আরাফাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে। রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিবিআই জানায়, মূল আসামি আজিম হোসাইন তার স্ত্রী নুসরাত জাহান মীমের সঙ্গে নিহত আরাফাতের সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে বন্ধু ফয়সালের সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় ওষুধ কেনার কথা বলে আরাফাতকে বাসা থেকে বের করে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। এরপর গামছা দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার মরদেহ সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট লেক থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর মামলাটি পিবিআই তদন্তে নেয়। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় চলতি বছরের ৫ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরা থেকে মূল আসামি আজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে শনির আখড়া থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে মীমকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে আজিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। নিহত আরাফাতের পরিবার জানায়, সে অত্যন্ত মেধাবী ছিল এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে এবং তারা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে কাজ অব্যাহত রয়েছে।