নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস-এ অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এবার সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রোববার (১০ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর কাছে। ৪ মে ফল ঘোষণার পর থেকেই দলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এরপর দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়। গত শনিবার তিনজন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনার বদলে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, দলেরই এক মুখপাত্র রিজু দত্ত একটি ভিডিও বার্তায় বিজেপি নেতাদের প্রশংসা করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন এবং পরে দলীয় কারণ দর্শানো নোটিশের কোনো জবাব দেননি।
সাবেক ক্রিকেটার ও প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারিও দলীয় প্রার্থীতার টিকিট বণ্টন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, নির্বাচনী টিকিটের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করা হয়েছিল, যা তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোহিনূর মজুমদার অভিযোগ করেন, শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
মালদহ ও কোচবিহারের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ দলের পরাজয়ের জন্য তাকে দায়ীও করেছেন। দলীয় ভেতরের এই টানাপোড়েন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে অভ্যন্তরীণ এই অসন্তোষ কতদূর বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।