সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বেতকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি কাঁচা সড়ক এখন স্থানীয়দের জন্য যেন মৃত্যুফাঁদে

আতিয়ারা আর কতকাল মরবে!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১২ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময় , আপডেট সময় : ১২ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৪ সময়

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বেতকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি কাঁচা সড়ক এখন স্থানীয়দের জন্য যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে হাঁটুসমান কাদায় ডুবে থাকা প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক পার হতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। আর এই দুর্ভোগের নির্মম শিকার হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা আতিয়া বেগম।স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রসব ব্যথা উঠলে বৃষ্টির রাতে আতিয়াকে ভ্যানে করে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বেতকান্দি থেকে উধুনিয়া পর্যন্ত কাঁচা সড়কে বারবার আটকে যায় ভ্যানের চাকা। তীব্র যন্ত্রণা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা পর হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আতিয়ার বাবা আকবর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাস্তা যদি ভালো থাকত, তাহলে হয়তো মেয়েটাকে বাঁচানো যেত। কয়েকজন মিলে ভ্যান ঠেলে নিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পরও বাগমারা, বেতকান্দি, সুবৈদ্যমরিচ, গজাইল, দিঘলসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র এই সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। অথচ এই পথের মধ্যেই রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাটবাজার ও কবরস্থান।


প্রবীণ বাসিন্দা খাদেম মিয়া জানান, প্রতি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে বর্ষাকালে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এদিকে কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।


বাগমারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “বর্ষায় কাদা আর গ্রীষ্মে ধুলার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সড়কটি পাকা করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল্লাহ জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তাদের জানা আছে এবং সড়ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, লিখিত আবেদন পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯