দীর্ঘ দুই বছরের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর হাসপাতালটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও চিকিৎসক, নার্স, জনবল, আসবাবপত্র ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিসহ প্রশাসনিক সমন্বয় জটিলতার কারণে এতদিন হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে পরিচালনা নিয়ে টানাপোড়েনও ছিল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের নতুন চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ৩ একর জমির ওপর ২০২০ সালে ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে পরিচালন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ না হওয়ায় ভবনটি এতদিন অচল অবস্থায় ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দেশের আরও কয়েকটি জেলায় নির্মিত একই ধরনের হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে চালু না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর এসব হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়া আবারও গতি পেয়েছে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানান, শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় জনবল চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, হাসপাতালটি চালু হলে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলার শিশু রোগীদের ওপর চাপ কমবে এবং ঢাকামুখী রেফারেলের হারও হ্রাস পাবে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন বলেন, ভবন হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে খুব দ্রুতই হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।