যশোরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে দুই দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার ও সোমবার চলা এ অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ মোট ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাউজিং এস্টেট এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। এক বছরের বেশি সময় ধরে দখলদারদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ মাইকিং করে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। এরপরই অভিযান শুরু করা হয়।
অভিযান শুরু হয় রবিবার সকাল ৯টায়। প্রথমে বাবলাতলা এলাকায় একটি অবৈধ বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে গাবতলা মোড়, বি-ব্লক বাজার ও সি-ব্লক এলাকায় একাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, দোকান ও আবাসিক ঘরও ছিল। পরবর্তীতে উপশহর পার্ক এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ও পাশের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই এলাকায় আমতলা বস্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এবং দুটি কারখানা ভেঙে দেওয়া হয়।
সোমবারও হাইকোর্ট মোড়, ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এদিন আরও প্রায় ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়, যার মধ্যে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে। অভিযান চলাকালে এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং অতীতে কিছু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে এসব স্থাপনা বসার সুযোগ দিয়েছিলেন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বারবার সতর্ক করার পরও দখলদাররা সরে না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।