পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক দমকলমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার (১১ মে) সকালে কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সোয়া নয়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসহযোগিতা করেছেন এবং একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। বিষয়টি জানিয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক।
ইডি সূত্র অনুযায়ী, সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছেলে ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে দপ্তরে উপস্থিত হন সুজিত বসু। টানা সাড়ে দশ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এরপরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার রাতেই শারীরিক পরীক্ষার পর মঙ্গলবার তাকে বিশেষ আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার সাবেক উপ-পৌরপ্রধান থাকাকালে তিনি অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই মামলার তদন্তে আগে থেকেই তার বাসভবন, অফিস ও রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালায় ইডি। এর আগে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পেলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে এড়িয়ে যান। পরে আদালতের নির্দেশে ১ মে প্রথম দফায় ইডির মুখোমুখি হলেও সেদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদেই শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পরপরই এই গ্রেপ্তারকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই মামলায় রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী রথীন ঘোষের নামও রয়েছে, তবে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বারবার হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর আগে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ইডি তদন্ত নথি, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা।