অভাবের সংসার সামলাতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার যুবক আব্দুর রহিম। কিন্তু দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্ত হতে হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে, যেখানে ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২ এপ্রিল ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় পর পরিবার ঘটনাটি জানতে পারে বিভিন্ন সূত্র ও সহযোদ্ধাদের মাধ্যমে।
পরিবারের দাবি, প্রথমে ওয়ার্কশপ ও পরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়, যা পরিবারের অজানা ছিল। রহিম ২০১৫ সালে ঋণ করে সিঙ্গাপুরে যান এবং দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। পরে আবার বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে দালালের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি রাশিয়ায় পৌঁছান। পরিবার জানায়, সেখানে থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন সময়ে বাড়িতে টাকা পাঠালেও তার প্রকৃত অবস্থান—যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা হিসেবে যুক্ত হওয়া—পরিবার জানত না। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয় তার এক সহযোদ্ধার বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি থেকে, যেখানে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর পোশাকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, ছেলেকে ওয়েল্ডিং কাজের আশায় বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু দালালের কারণে সে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে প্রাণ হারায়। তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া এবং পরিবারকে সহায়তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।