ভারতের একটি অনলাইন ওষুধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ১৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। অভিযোগ রয়েছে, তারা ফেন্টানাইল মিশ্রিত নকল প্রেসক্রিপশন ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবেই অভিযুক্তরা কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদনহীন এসব অনলাইন ফার্মেসি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে হাজার হাজার নকল ওষুধ বিক্রি করেছে। এসব ওষুধে অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক ফেন্টানাইল মেশানো ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ফেন্টানাইল পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থই এই চক্রের প্রধান আয়ের উৎস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফেন্টানাইলকে “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। ফলে বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত করে দেখছে ওয়াশিংটন।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, অবৈধ মাদক চক্র দমনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের যৌথ সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা আমেরিকান নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে কিংবা এ ধরনের অপরাধে সহায়তা করছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্তপারের অপরাধ ও আন্তর্জাতিক মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দুই দেশের কঠোর অবস্থান আরও পরিষ্কার হলো। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অবৈধ ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনলাইন ফার্মেসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স