যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেছেন। সফর শেষে ট্রাম্পের চীন সফর সমাপ্ত হলেও আলোচনায় বড় কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও প্রতীকী কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা বড় চুক্তি ঘোষণা হয়নি।
বৈঠকের প্রথম দিনে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে এরপরও কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। বরং বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বহাল রাখার বিষয়েই উভয় পক্ষ জোর দিয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত রেখেছে এবং চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। দুই দেশ একটি নতুন ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের কথাও জানিয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনাগুলো পরিচালিত হবে।
বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে একটি কার্যকর কাঠামো গঠনের বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আলোচনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শি জিনপিং মার্কিন ব্যবসায়ীদের বলেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে। তবে নিয়ন্ত্রণনীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে প্রবেশ এখনো চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে উঠে আসে তাইওয়ান প্রসঙ্গ। চীন ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও তাইওয়ান ইস্যুকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হতে পারে। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, এ ইস্যু ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বৈঠকের শেষদিকে দুই নেতা বেইজিংয়ে একসঙ্গে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তা এবং হালকা পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফরে কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণতা পেলেও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি, বরং বিদ্যমান নাজুক ভারসাম্যই আপাতত বজায় রয়েছে।