গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রচলিত আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধনের দাবিতে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নেতারা বলেন, গণমাধ্যম সংক্রান্ত বহু আইন পুরোনো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থি। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ঘোষণাপত্রের ‘বি’ ফর্মের কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা দাবি করেন। এসব ধারা বাতিল বা সংশোধনের পাশাপাশি একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন বা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবও তারা উত্থাপন করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, আগামী জুন মাসের মধ্যে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে জুলাইয়ের মধ্যে একটি দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সম্পাদকরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, যথাযথ তদন্ত ছাড়া মামলা করা হলে তা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সহায়ক ভূমিকা রাখতে চায়। একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা, প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে নূরুল কবীর, দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মতিউর রহমান, মাহফুজ আনামসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকরা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে বলা হয়, মোট ২৮২ জন সাংবাদিক মামলার মুখোমুখি, যার মধ্যে ৯৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।