বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতের একটি রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির বিপরীত পথে গিয়ে এবার জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, দুইয়ের বেশি সন্তান গ্রহণ করলে পরিবারগুলোকে নগদ আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান করা হবে। শনিবার (১৬ মে) শ্রীকাকুলাম জেলার তামরাপল্লি গ্রামে এক বিশাল জনসমাবেশে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি জানান, পরিবারে তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে এককালীন ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তান হলে ৪০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সন্তান কোনো বোঝা নয়, বরং সম্পদ। তাই পরিবারে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” নীতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই জনমিতিক ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে রাজ্যের মোট জন্মহার ছিল ৩ দশমিক ০, যা বর্তমানে কমে ১ দশমিক ৫-এ নেমে এসেছে। অথচ টেকসই জনসংখ্যা ধরে রাখতে আদর্শ হার হওয়া উচিত প্রায় ২ দশমিক ১। তিনি আরও বলেন, জন্মহার কমে গেলে ভবিষ্যতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালির মতো দেশগুলোর মতো জনসংখ্যাগত সংকটে পড়তে পারে অন্ধ্র প্রদেশ।
নতুন নীতিতে শুধু নগদ সহায়তাই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাও রাখা হয়েছে। তৃতীয় সন্তানের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ১ হাজার রুপি ‘পুষ্টি সহায়তা’ দেওয়া হবে এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি এক বছর এবং পিতৃত্বকালীন ছুটি দুই মাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় এটি একটি ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।