মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। তবে সরকারি বন্ডের উচ্চ ইল্ড বা মুনাফার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির গতি সীমিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সঙ্গে আগামী মাসের ফিউচার বাজারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দরপতনের কারণে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠায় চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়াও মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে একই সময়ে বন্ডের উচ্চ ইল্ড বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে আগ্রহ কিছুটা কমাচ্ছে।
একজন বাজার বিশ্লেষকের মতে, বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি সাধারণত স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ এতে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে কিছু বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। জেপি মরগ্যান ২০২৬ সালের জন্য তাদের গড় স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে—রুপা ও প্লাটিনামের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য কমেছে।বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার নীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের মূল দিক নির্ধারণ করবে।
সূত্র: রয়টার্স।