রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪)–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে এখনো বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বর এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশুর মাথা শৌচাগার থেকে এবং শরীরের অংশ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কর্মরত এবং মা গৃহিণী। পরিবারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে বসবাস করতেন।
এ বিষয়ে ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সোহেল রানাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়, কারণ তার কক্ষ থেকেই রক্তমাখা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, বিস্তারিত তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।