আর মাত্র কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি, যার মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু জবেহ করা।
ইসলামে কোরবানি একান্তই আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
“নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”
— সুরা আনআম, আয়াত ১৬২-১৬৩
এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, মুসলমানদের সব ইবাদতই হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাই কোরবানিতেও থাকতে হবে পরিপূর্ণ ইখলাস ও আন্তরিকতা।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর থেকেই কোরবানির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ, যে এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা সহিহ হবে না।
হাদিসে বর্ণিত আছে, কোরবানির দিন নবী করিম (সা.) প্রথমে ঈদের নামাজ আদায় করেন, এরপর খুতবা দেন এবং পরে কোরবানি করেন। তিনি বলেন, নামাজের আগে কেউ পশু জবেহ করলে তাকে পুনরায় কোরবানি করতে হবে।
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৫
তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী, এমন কোনো প্রত্যন্ত গ্রাম বা অঞ্চল যেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা বৈধ।
হানাফি মাযহাবের ফিকহ অনুযায়ী, বড় শহর বা এমন এলাকায় যেখানে জুমা ও ঈদের জামাতের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা জায়েজ নয়। অন্যদিকে ছোট গ্রাম বা দুর্গম এলাকায়, যেখানে ঈদের জামাত হয় না কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে সুবহে সাদিকের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে।
অর্থাৎ, শহরাঞ্চলে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করতে হবে, আর যেসব অঞ্চলে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় না, সেখানে ভোর হওয়ার পর থেকেই কোরবানি বৈধ।