বেশ কয়েকদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জার্মান বংশোদ্ভূত কোচ থমাস ঢুলি-কেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যদিও বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ছিল রহস্য ও গোপনীয়তা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কোচকে ঢাকায় আনা হয়, যা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে দেশের ফুটবল মহলে থমাস ঢুলির নাম আলোচনায় থাকলেও বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এমনকি তাকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবিতে বাফুফে ভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান নতুন এই কোচ।
বাফুফে পরে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানা গেছে, খুব শিগগিরই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে এবং সেখান থেকেই কাজ শুরু করবেন থমাস ঢুলি। জার্মানিতে জন্ম হলেও সাবেক এই ফুটবলার খেলোয়াড়ি জীবন কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে। তিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছেন এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জার্মান কিংবদন্তি কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সম্যান-এর সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।
ঢাকায় এসে ক্রীড়া সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন থমাস ঢুলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার বিষয়টি তিনি জানেন এবং চাপ সামলাতে প্রস্তুত আছেন। নতুন কোচের ভাষ্য, “আমি এমন ফুটবল পছন্দ করি যেখানে খেলোয়াড়রা বলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শুধু বলের পেছনে দৌড়ানো আমার পছন্দ নয়। আমি চাই দল আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলুক এবং নিজেদের ফুটবল খেলুক।”
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১ হলেও থমাস ঢুলি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেছেন। তার লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ১৬০-১৫০ র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসা। তিনি আরও জানান, সফলতার জন্য মানসিকতা বদল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে পারলে এবং কঠোর পরিশ্রম করলে বাংলাদেশের উন্নতি সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা-এর চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। এরপরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে বাফুফে।