মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নৌপথ সুরক্ষার অংশ হিসেবে তারা একটি ‘আত্মরক্ষামূলক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। বুধবার (৩ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হামলার পর কেশম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, আঞ্চলিক মিত্র দেশ এবং আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ছিল অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের একাধিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা কমেনি বলেই মনে করছেন তারা।